Home Blog Maintenance ঢাকায় গাড়িতে ভেন্টিলেটেড সিট ইন্সটলেশন: কীভাবে ও কোথায় পাওয়া যাবে?
ঢাকায় গাড়িতে ভেন্টিলেটেড সিট ইন্সটলেশন: কীভাবে ও কোথায় পাওয়া যাবে?

ঢাকায় গাড়িতে ভেন্টিলেটেড সিট ইন্সটলেশন: কীভাবে ও কোথায় পাওয়া যাবে?

ঢাকার অসহনীয় গরম এবং দীর্ঘ যানজটে গাড়ির ভেতরটা যেন একটি তপ্ত চুল্লিতে পরিণত হয়। এসি চালিয়েও পিঠ এবং কোমরের ঘাম থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। এই সমস্যার দারুণ এক সমাধান হতে পারে গাড়িতে ভেন্টিলেটেড সিট ইন্সটল করা। আগে শুধুমাত্র বিলাসবহুল গাড়িতে এই ফিচার দেখা গেলেও, বর্তমানে আফটারমার্কেট অপশন হিসেবে এটি যেকোনো গাড়িতেই যুক্ত করা সম্ভব। চলুন, এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ভেন্টিলেটেড সিট কী এবং এর সুবিধা

ভেন্টিলেটেড সিট মূলত এমন এক ধরনের গাড়ির আসন যার ভেতরে ছোট ছোট ফ্যান বা ব্লোয়ার বসানো থাকে। এই ফ্যানগুলো সিটের কভারের অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে বাতাস প্রবাহ করে, যা চালক বা যাত্রীর শরীরকে ঠান্ডা এবং শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে আমাদের দেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এর কার্যকারিতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:

  • আরামদায়ক ভ্রমণ: দীর্ঘক্ষণ ড্রাইভিং বা যানজটে বসে থাকলেও পিঠ ও শরীরের সংস্পর্শে থাকা অংশ ঘেমে যাওয়া থেকে মুক্তি দেয়।
  • দ্রুত শীতলীকরণ: পার্কিংয়ে রোদে রাখা উত্তপ্ত গাড়ি খুব দ্রুত ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। এসির পাশাপাশি ভেন্টিলেটেড সিট চালালে শরীর তাৎক্ষণিকভাবে শীতল হয়।
  • স্বাস্থ্যকর পরিবেশ: ঘাম ও আর্দ্রতা রোধ করার ফলে সিটে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস জন্মানোর আশঙ্কা কমে যায়, যা গাড়ির ভেতরের পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর রাখে।
  • মনোযোগ বৃদ্ধি: গরমে অস্বস্তি কমলে ড্রাইভিংয়ে মনোযোগ বাড়ে, যা রাস্তাকে আরও নিরাপদ করে তোলে।

ঢাকায় কোথায় গাড়িতে ভেন্টিলেটেড সিট ইন্সটল করাবেন?

ঢাকায় গাড়ির সিট কভার ও মডিফিকেশন নিয়ে কাজ করে এমন অনেক ওয়ার্কশপ রয়েছে। তবে ভেন্টিলেটেড সিট ইন্সটলেশনের জন্য একটু বিশেষায়িত জ্ঞান ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়। ঢাকার বিজয় সরণি, নিউ ইস্কাটন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং গুলশান-বনানীর মতো এলাকাগুলোতে বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য অটোমোবাইল এক্সেসরিজ ও ডেকোরেশন শপ রয়েছে যারা এই সেবা প্রদান করে।

কিছু পরিচিত নাম যারা এই ধরনের মডিফিকেশন করে থাকে তাদের মধ্যে রয়েছে ‘অটো জোন বাংলাদেশ’, ‘কার বিউটি.বিডি’ এবং ‘সিট এক্স বিডি’-এর মতো প্রতিষ্ঠান। এই ওয়ার্কশপগুলোতে সাধারণত দক্ষ টেকনিশিয়ান থাকেন যারা সিটের গঠন না ভেঙে নিখুঁতভাবে ফ্যান ও ওয়্যারিংয়ের কাজ করতে পারেন।

ইন্সটলেশন প্রক্রিয়া ও সময়

ভেন্টিলেটেড সিট ইন্সটল করার প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। সাধারণত, এই প্রক্রিয়ায় কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা হয়:

  1. সিট খোলা: প্রথমে গাড়ি থেকে ড্রাইভার ও প্যাসেঞ্জারের সিট সাবধানে খুলে বের করা হয়।
  2. কভার ও ফোম প্রস্তুতকরণ: এরপর সিটের লেদার বা ফেব্রিক কভারটি খোলা হয়। বাতাসের জন্য পথ তৈরি করতে সিটের ফোমের কিছু অংশ কাটা হয় এবং কভারে ছোট ছোট ছিদ্র (Perforation) করা হয় যদি আগে থেকে না থাকে।
  3. ফ্যান বসানো: প্রতিটি সিটের ভেতরে প্রয়োজন অনুযায়ী (সাধারণত ৪ থেকে ৮টি) ছোট কিন্তু শক্তিশালী ফ্যান নির্দিষ্ট কৌশলে বসানো হয়।
  4. ওয়্যারিং: ফ্যানগুলোর জন্য গাড়ির ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমের সাথে নিরাপদভাবে ওয়্যারিং সংযোগ করা হয়। এর জন্য আলাদা সুইচ বা কন্ট্রোলার ড্যাশবোর্ড বা সিটের পাশে সুবিধামতো জায়গায় বসানো হয়।
  5. সিট পুনঃস্থাপন: সব কাজ শেষে সিট পুনরায় গাড়িতে স্থাপন করা হয় এবং সিস্টেমটি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়।

সম্পূর্ণ কাজটি শেষ হতে সাধারণত একটি গাড়ির দুটি সিটের জন্য ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা বা প্রায় পুরো একটি কর্মদিবস লেগে যেতে পারে।

খরচ কেমন হতে পারে?

ভেন্টিলেটেড সিট ইন্সটলেশনের খরচ মূলত নির্ভর করে ফ্যানের সংখ্যা, মান, কন্ট্রোলার সিস্টেম এবং ওয়ার্কশপের চার্জের উপর। সাধারণত, ঢাকার বাজারে দুটি সিটের জন্য এই খরচ ১৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০,০০০ টাকা বা তার বেশিও হতে পারে। গাড়ির মডেল এবং সিটের ধরনের উপর ভিত্তি করে খরচের তারতম্য হওয়া স্বাভাবিক। কাজটি করার আগে কয়েকটি ওয়ার্কশপ থেকে দরদাম করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

কিছু জরুরি পরামর্শ

  • অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান: যেহেতু এই কাজে গাড়ির ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম যুক্ত, তাই অনভিজ্ঞ হাতে কাজ করালে গাড়ির ওয়্যারিং বা ECU (Engine Control Unit) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সব সময় একটি নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান বেছে নিন।
  • ওয়ারেন্টি: ইন্সটলেশনের আগে অবশ্যই বিক্রেতার কাছ থেকে যন্ত্রাংশ এবং সার্ভিসের ওপর ওয়ারেন্টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন।
  • সুইচের অবস্থান: কন্ট্রোল সুইচটি এমন জায়গায় স্থাপন করতে বলুন যেখানে আপনি সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
  • সিট কভার: আপনার গাড়ির সিট কভার যদি লেদারের বা এমন কিছু দিয়ে তৈরি হয় যেখানে বাতাস চলাচলের ছিদ্র নেই, তবে সেটি পরিবর্তন বা পারফোরেশন করার প্রয়োজন হবে।

সবশেষে, ঢাকার ট্র্যাফিক এবং গরমে স্বস্তি পেতে গাড়িতে ভেন্টিলেটেড সিট একটি চমৎকার বিনিয়োগ। সঠিক জায়গা থেকে সঠিকভাবে ইন্সটল করা হলে এটি আপনার প্রতিদিনের যাত্রাকে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তুলবে।

Add comment

Subscribe

Sign up to receive
the latest news

All you need to know about everything that matters

© 2026 BDCarz.com | SAR EX-BA